আপনি কি সন্তান দত্তক বা পালক নেওয়ার কথা ভাবছেন? বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে সরাসরি ‘দত্তক’ শব্দটি সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য না হলেও, ‘অভিভাবকত্ব’ (Guardianship) গ্রহণের মাধ্যমে একটি শিশুকে আইনিভাবে নিজের করে নেওয়া সম্ভব। এই ব্লগে আমরা সন্তান দত্তক নেওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আইনি ধাপগুলো বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. পালক সন্তান গ্রহণে আবেদনকারীর যোগ্যতা
-
মানসিকভাবে সুস্থ এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে হবে।
-
আইন অনুযায়ী বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে (সাধারণত ৩৫-৪৫ বছর বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়)।
-
অবিবাহিত বা বিধবা নারীরাও প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে অভিভাবকত্ব নিতে পারেন।
২. পালক সন্তান গ্রহণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Required Documents)
আদালতে অভিভাবকত্বের আবেদন করার সময় এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিচের নথিপত্রগুলো সংগ্রহে রাখা বাধ্যতামূলক:
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট: আবেদনকারী স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি।
-
বিবাহের প্রমাণপত্র: বিয়ের কাবিননামা বা ম্যারিজ সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি।
-
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (TIN) সার্টিফিকেট বা বেতন সংক্রান্ত সনদপত্র।
-
চারিত্রিক সনদপত্র: স্থানীয় কাউন্সিলর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদ।
-
নাগরিকত্ব সনদ: স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার প্রমাণস্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত সনদ।
-
স্বাস্থ্যগত সনদ: আবেদনকারী দম্পতি বা ব্যক্তি সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত এবং মানসিকভাবে সুস্থ কি না, তার মেডিকেল রিপোর্ট।
-
অনাপত্তি পত্র (NOC): যদি শিশুটি কোনো প্রতিষ্ঠান (যেমন- সেভ দ্য চিলড্রেন বা সরকারি শিশু নিবাস) থেকে নেওয়া হয়, তবে তাদের অনাপত্তি পত্র। আর যদি ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয়, তবে শিশুর প্রকৃত পিতামাতার সম্মতিসূচক হলফনামা।
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি: আবেদনকারী এবং শিশুর সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি।
৩. অভিভাবকত্ব লাভের আইনি প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে মুসলিম আইনে দত্তক নেওয়ার সরাসরি বিধান নেই, তাই ‘দ্য গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০’ অনুযায়ী অভিভাবকত্ব নিতে হয়।
-
আবেদন দাখিল: উপরে উল্লিখিত নথিপত্রসহ একজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে।
-
তদন্ত ও শুনানি: আদালত শিশুর নিরাপত্তা এবং আবেদনকারীর সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
-
আদালতের রায়: আদালত সন্তুষ্ট হলে আবেদনকারীকে শিশুর ‘আইনি অভিভাবক’ হিসেবে ঘোষণা করে একটি ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেন।
৪. শিশুর নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার
যেহেতু পালক সন্তান সরাসরি উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পায় না, তাই তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সচেতন থাকতে হবে:
-
সম্পত্তি দান (Gift/Heba): আপনার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি শিশুর নামে ‘হেবা’ বা দান করে দিলে তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়।
-
উইল (Will): আপনি চাইলে আপনার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সন্তানের জন্য উইল করে যেতে পারেন।
৫. নির্ভরযোগ্য আইনি সহায়তা: ইকুইটি ল হাউস (Equity Law House)
সন্তান দত্তক বা পালক নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আইনের মারপ্যাঁচে কিছুটা জটিল হতে পারে। প্রতিটি নথিপত্র নিখুঁতভাবে তৈরি করা এবং আদালতের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবীর বিকল্প নেই।
এই মহৎ কাজে সঠিক আইনি দিকনির্দেশনা এবং নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা পেতে আপনি ইকুইটি ল হাউস (Equity Law House)-এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা পারিবারিক আইন ও শিশু অধিকার বিষয়ে দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আইনি পরামর্শ ও সেবা প্রদান করে আসছে।
উপসংহার
সন্তান দত্তক নেওয়া শুধু একটি পরিবার গঠন নয়, বরং একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রেখে আইনি পথে এগোলে আপনার এই যাত্রা সফল হবে।




